সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি, কোনো বৈষম্য থাকবে না : এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মেয়েকে হারিয়েছেন পানিতে, এখন অন্য শিশুদের বাঁচাতে সাঁতার শেখান বাবা লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি

উৎপাদন অনুযায়ী ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়নি, হতাশ হাওরাঞ্চলের কৃষক

  • আপলোড সময় : ৩০-০৪-২০২৫ ০২:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৪-২০২৫ ০২:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
উৎপাদন অনুযায়ী ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়নি, হতাশ হাওরাঞ্চলের কৃষক
বিশেষ প্রতিনিধি :: চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি বিভাগের। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে পুরোদমে চলছে ধান কাটা। আবাদকৃত ৮০ ভাগ বেশি জমির ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হলেও এবার অন্য বছরের চেয়ে কম ধান ক্রয় করছে সরকার। জেলায় উৎপাদিত প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে মাত্র ১৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৬ টাকা কেজি দরে ১৪৪০ টাকা মণে সরাসরি ১০ হাজার কৃষকের কাছ থেকে এই ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ। গত ২৪ এপ্রিল সরকারিভাবে ধান ক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এদিকে গেল বছর প্রত্যেক কৃষক সরকারি গুদামে ৩ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করতে পারলেও এবার মাত্র দেড় মেট্রিক টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। জেলায় পৌনে চার লাখ কৃষকের মধ্যে মাত্র ১০ হাজার কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। এমন সিদ্ধান্তে হতাশা এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। তারা ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, স্থানীয় পর্যায়ে ১০০-১২০০ টাকা মণে ধানের বাজার রয়েছে। সরকারিভাবে ধানের ধানের দাম ১৪৪০ টাকা হলেও ক্রয়ের পরিমাণ কম থাকায় এবং পরিবহন ব্যয়সহ নানা দাপ্তরিক নিয়ম-কানুনের ‘হয়রানি’ এড়াতে গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা রয়েছে কৃষকদের মাঝে। তাই খাদ্যগুদামে না এসে পাইকার ও ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করছেন তারা। শান্তিগঞ্জের উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের কৃষক মহিবুর বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি ৭০-৮০ মণ ধান বিক্রি করবো। মাত্র দেড় টন ধান বিক্রি করতে উপজেলার গুদামে নিয়ে গিয়ে আমাদের পোষাবে না। বাকি ধান আমাকে পাইকারের কাছে বিক্রি করতে হবে। তাছাড়া বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে ধান নিয়ে যেতে পরিবহনসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হবে। এছাড়া এখনই আমার টাকার প্রয়োজন। ধান কাটা শ্রমিক ও মেশিনের টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাই পাইকারের কাছেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। আমার মতো এলাকার অনেক কৃষক স্থানীয় পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করছেন। হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, উৎপাদন অনুযায়ী ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়নি। জেলায় ৪ লাখ কৃষক রয়েছেন। আর সরকারি গুদামে ধান দিতে পারবেন মাত্র ১০ হাজার। একজন কৃষক মাত্র দেড় টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। এই অল্প পরিমাণ ধান গুদামে আনতে এবং গুদামের সিস্টেম ফলো করতে গিয়ে কৃষকরা অনীহা প্রকাশ করেন। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি কৃষকরা গুদামে না এসে স্থানীয় পর্যায়ে ধান বিক্রি করছেন। কৃষকের কাছ থেকে ৩-৪ মেট্রিক টন করে ধান কেনা হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, হাওরে ধান কাটা পুরোদমে চলছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের নিচু এলাকার ধান কর্তন শেষ হয়ে যাবে। এবার ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন কবির বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জে এবার ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন। জাতীয়ভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে সুনামগঞ্জেও কমেছে। এ নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। বর্তমানে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে তা অর্জিত হলে আমরা বাড়তি বরাদ্দের জন্য চেষ্টা করবো। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বোরো চাষাবাদে জড়িত ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫ পরিবার। কার্ডধারী কৃষক রয়েছেন ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ জন। চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩৭টি হাওরে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার

‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার